এপ্রিল ১৭, ২০২৪ ২:০১ অপরাহ্ণ

Menu

মাশরুম চাষ করে বছরে যেভাবে ৬ লক্ষ টাকা আয় শুরু করেন তিনি

চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই সোনার হরিণ কপালে জোটেনি তার। তবে হাল না ছেড়ে অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন উদ্যোক্তা। এখন তিনি সফল।
ইন্দ্রজি কুমার | ছবিঃ ঢাকা পোস্ট
ইন্দ্রজি কুমার | ছবিঃ ঢাকা পোস্ট

ইন্দ্রজিত কুমার, একজন তরুণ উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ করে যার বাৎসরিক আয় এখন প্রায় ৬ লাখ টাকা। ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের হাটফাজিলপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার প্রেমচাঁদ বিশ্বাসের ছেলে ইন্দ্রজিত কুমার তার উদ্যোক্তা হবার গল্প বলেন ঢাকা পোস্টকে। 

১০ শতক কৃষি জমিতে ’দেশবন্ধু মাশরুম খামার’ নামে একটি ঘর নির্মাণ করে সেখানে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। সেখানে কর্মরত সবাই মাদার, কাঠের গুড়ার স্পন, খড়ের সিলিন্ডার প্যাকেট তৈরি করছে।

৩ জাতের মাশরুম তিনি চাষ করছেন যার বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার মাশরুম প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকা, মিল্কী মাশরুম ৩৫০-৪৫০ টাকা ও গ্যানোডার্মা মাশরুম ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খামারে ৫ হাজার সিলিন্ডার প্যাকেট রয়েছে।

মাষরুম চাষের একটি চিত্র | ছবিঃ ঢাকা পোস্ট

ইন্দ্রজি কুমারের মা ঢাকা পোস্টকে জানান, ছেলে ইন্দ্রজিত বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া শেষ করে চাকরী করেনি। চাইলে বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরী করতে পারতো। চাকরি না কের মাশরুম খামার করেছে। আশেপাশের অনেক বেকার লোক তার খামারে কাজ করছে। অনেক মেয়েরা এই খামারে কাজ করে। এই খামারটি করাতে অনেক দরিদ্র পরিবারের বেকার ছেলে মেয়েদের কাজের সুযোগ হয়েছে। সব মিলায়ে ভালোই লাগে।

২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেন ইন্দ্রজিত। ২০২১ সালে ট্রেনিং নিয়ে  অল্প পরিসরে মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রথমে ইউটিউবে কিভাবে মাশরুম চাষ করা হয় তা দেখে উদ্বুদ্ধ হই। মাগুরা ড্রিম মাশরুম সেন্টার থেকে ৪ দিনের ট্রেনিং ও ২য় পর্যায়ে সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউট থেকে ৩ দিনের ট্রেনিং নিয়ে কাজ শুরু করি। পরীক্ষামূলকভাবে খড়, কাঠের গুড়া, গমের ভুষি, তুষ ও চুন দিয়ে নিজেই স্পন প্যাকেট তৈরি করে মাশুরুমের বীজ বপন করি।

মাশরুম চাষ করার পদ্ধতি সম্পর্কে ইন্দ্রজিত জানান, মাশরুম চাষের জন্য এক থেকে দেড় ইঞ্চি করে খড় কাটতে হয়। এরপর সিদ্ধ করে হাল্কাভাবে শুকাতে হয়। যাতে চাপ দিলে পানি না ঝরে। এরপর খড়গুলো পলিথিনের প্যাকেটে রেখে তাতে মাশরুমের মাদার দিতে হবে। প্যাকেটের মুখ বন্ধ করে কয়েকটা ছিদ্র করে দিতে হয়। এ বীজের সঙ্গে টিস্যু কালচার যুক্ত করে সঠিক পরিচর্যায় ২০ দিনের মাথায় শুরু হয় ফলন। দুই মাসে একেকটি স্পন প্যাকেট থেকে চারবার মাশরুম পাওয়া যায়।

আরও বলেন, মাশরুম চাষ আমাদের দেশে এখনো তেমন বিস্তর লাভ করেনি। তবে দেশে যে পরিমাণ বেকার রয়েছে সবাইকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে কিছুটা হলেও বেকারত্ব দূর হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যপুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব এই মাশরুম থেকে। সরকারি সহায়তা কিংবা স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা পেলে এ খামার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন বলে দাবি করেন এই  তরুণ উদ্দোক্তা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৩০ টন মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ঢাকা পোস্ট

ঝিাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক আজগর আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, শৈলকুপাতে উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিত কুমার বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করছেন। তিনি তার খামার থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি মাশরুম বিক্রি করেন।

সৌজন্যে: ঢাকা পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরও

সর্বাধিক পঠিত